প্রাউট একটি নোতুন সমাজিক-অর্থনৈতক-আধ্যাত্মিক দর্শন-যার প্রবক্তা মহান দার্শনিক শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার। প্রকৃতপক্ষে বর্তমান সমাজের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রনৈতিক, শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক তথা সমস্ত প্রকার সমস্যারই সমাধান রয়েছে এই নোতুন যুগান্তকারী সমাজ দর্শনে। ১৯৫৯ সাল থেকে শ্রী সরকার এই দর্শনটি দেওয়া শুরু করেন।
‘প্রাউট’ (PROUT) শব্দটি Progressive Utilisation Theory-র সংক্ষিপ্ত রূপ।Pro= Progressive, U=Utilisation, T=Theory. বাংলায় যা হবে ‘প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত্ব’। যেহেতু প্রাউট বিশ্বের সমস্ত মানুষের কল্যাণের জন্য তাই বর্তমান পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে ইংরাজীতেই এই তত্ত্বের নামকরণ করা হয়েছে। এই প্রাউটের নামকরণের মধ্যে আমরা যে শব্দগুলি পাই সেগুলি হল- প্রগতিশীল(Progressive) ও উপযোগ (Utilisation)। এখন ‘প্রগতিশীল’ শব্দের মধ্যে‘প্রগতি’ কথাটির মানে ‘প্রকৃষ্ট গতি’, অর্থাৎ যে গতি শুভের পথে চালিত। দ্বিতীয়ত- কোন’ দ্রব্যের দ্বারা অভাব মোচনকে বলা হয়‘উপযোগ’। আর এই অভাব যার দ্বারা মিটতে পারে সেই দ্রব্য-ই হ’ল সম্পদ।
আমাদের এই পৃথিবী নানান সম্পদে পরিপূর্ণ। ঈশ্বর মানুষের সৃষ্টির পূর্বেই মানুষের অভাব পূরণের জন্য অজস্র সম্পদ সাজিয়ে রেখেছেন। তবুও মানুষের অভাবের শেষ নেই। কারণ ঈশ্বরের দেওয়া অজস্র সম্পদের যথাযথ উপযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না। তাই, কীভাবে মানুষ সম্পদের যথাযথ উপযোগের মাধ্যমে তার সমূহ সমস্যার সমাধান করবে, তার মূল নীতি এখানে ব্যক্ত করা হয়েছে। পৃথিবীর সম্পদের যথাযথ উপযোগের এই নীতির স্বভাব হবে স্থান-কাল-পাত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সবসময় প্রগতির পথে বা শুভের পথে এগিয়ে চলা। তাই এই নীতির বা দর্শনের বা তত্ত্বের নামকরণ করা হয়েছে প্রাউট বা প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত্ব।
We use cookies to analyze website traffic and optimize your website experience. By accepting our use of cookies, your data will be aggregated with all other user data.