‘আমরা বাঙালী’ অসম গণ পরিষদ, তেলেগু দেশম, ডি.এম.কে. বা এ.ডি.এম.কে-র মতো তথাকথিত রাজনৈতিক দল নয়।মহান দার্শনিক শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার-এর প্রাউট(PROUT-Progressive Utilization Theory অর্থাৎ প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত) দার্শনের সামাজিক অর্থনৈতিক আন্দোলনের প্রথম ধাপে বাঙালী অধ্যুষিত অঞ্চলের সংগঠনের নাম ‘আমরা বাঙালী’।
‘অসম গণ পরিষদ’ অসমীয়াদের জন্যে, ‘তেলেগু দেশম’ তেলেগু ভাষীদের জন্যে, ডি.এম.কে. বা এ.ডি.এম.কে তামিল ভাষীদের জন্যে কাজ করবে, এর বেশী এদের কোন লক্ষ্য নেই।এমনকি কংগ্রেস বা ভারতীয় জনতা পার্টিরও ভারতের বাইরের মানুষের প্রতি কোন কর্তব্য নেই। এখানেই ওইসব রাজ দলের সঙ্গে ‘আমরা বাঙালী’-র পার্থক্য। তাই ‘আমরা বাঙালী’ তথাকথিত রাজনৈতিক দল নয়- আমাদের সামাজিক আন্দোলনের প্রথম ধাপ।
এই সামাজিক অর্থনৈতিক আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য শোষণ মুক্ত বিশ্ব। কিন্তু সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা থাকায় সেই সমস্যা থেকে উত্তরণের পথও বিভিন্ন হতে বাধ্য। সেই জন্যই দার্শনিক শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার তাঁর প্রাউট দর্শনে সমগ্র বিশ্বকে কয়েকটি সামাজিক-অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিভক্ত করে সেখানকার স্থানীয় মানুষকে নিজ নিজ অঞ্চলের আন্দোলন করতে উৎসাহিত করেছেন।
শোষণের ছলা্-কলা-আবরণ উন্মোচন করে শ্রী সরকার দেখিয়েছেন যে সাধারণত উন্নত অর্থনৈতিক অঞ্চল, অবনত অর্থনৈতিক অঞ্চলকে শোষণ করে। অবনত অর্থনৈতিক অঞ্চল যেহেতু স্বয়ং সম্পূর্ণ অঞ্চল নয় সেহেতু তাকে উন্নত অর্থনৈতিক অঞ্চলের কৃপাপার্থী হতে হয়, আর সেই সুযোগেই শোষণ চলে। তাই শ্রী সরকার সমগ্র বিশ্বকে এমন কয়েকটি অঞ্চলে বিভক্ত করতে বলেছেন যে উক্ত বিভক্ত যে কোন একটি অঞ্চলের মানুষ তার নিজ নিজ(প্রাকৃতি্ক ও মানবিক) সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নিজ নিজ অঞ্চলকে স্বয়ং সম্পূর্ণ করে গড়ে তুলতে পারে।
মূলতঃ ৫টি সাদৃশ্যের ভিত্তিতে অঞ্চলগুলি ঘটিত হবে-
এই পাঁচটি ফ্যাক্টর-এর মধ্যে প্রথম দুটি ফ্যাক্টর সরাসরি অর্থনৈতিক। আর তৃতীয় তথা ভৌগলিকি বৈশিষ্টের উপর অর্থনীতি কিছুটা নির্ভরশীল বলে তাকেও পরোক্ষে অর্থনৈতিক বলা যেতে পারে।কিন্তু এই তিনটে বিষয়ের ওপর মাথা ঘামিয়েও অর্থনীতিবিদরা অঞ্চলটিকে স্বয়ং সম্পূর্ণ করতে পারবেন না, যতক্ষণ না চতুর্থ ও পঞ্চম ফ্যাক্টরের গুরুত্ব বুঝতে পারবেন।একই ধরণের জাতিগত সাদৃশ্য (অর্থাৎ দেখে যেন মনে হয়, চিনি উহারে,-দেখে যেন মনে হয়‘বাঙালী’) ও একই ধরণের সাংবেদনিক উত্তরাধিকারীগণই আন্দোলনের মাধ্যমে নিজ নিজ অঞ্চলকে স্বয়ং সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তরিত করতে পারবেন। এই কারণেই এই আন্দোলন শুধু অর্থনৈতিক আন্দোলন নয়, সামাজিক-অর্থনৈতিক আন্দোলন।
বাঙালী অধ্যুষিত অঞ্চলে, এই আন্দোলনের পতাকা তুলে ধরেছে‘আমরা বাঙালী’।এই আন্দোলনের সাফল্য লাভ করার পর প্রতিবেশী অঞ্চলগুলির আন্দোলনে সাহায্য করে তাদের সাফল্যমণ্ডিত করে পরস্পরের সীমানা মুছে নতুন সীমানা সৃষ্টি করতে হবে।সেই ধাপে আমাদের আন্দোলনের পতাকা থাকবে‘আমরা ভারতীয়’-দের হাতে, পরবর্তী ধাপে ‘আমরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়’-দের হাতে, এরপর‘আমরা এশিয়’-দের হাতে আর সর্বশেষে ‘আমরা বিশ্ববাসী’-দের হাতে। এই দৃষ্টিভাঙ্গির ভিত্তিতে বিশ্বব্যাপী সামাজিক-অর্থনৈতিক আন্দোলনে, আমাদের অঞ্চলের আন্দোলনের নাম‘আমরা বাঙালী’। আসুন প্রথমে বাঙলাকে ও সর্বশেষে বিশ্বকে শোষণমুক্ত করার এই আন্দোলনে যোগ দিই।
We use cookies to analyze website traffic and optimize your website experience. By accepting our use of cookies, your data will be aggregated with all other user data.